ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬ , ৩০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ , ই-পেপার
সংবাদ শিরোনাম
নিবন্ধন সনদবিহীন শিক্ষক নিয়োগে এনটিআরসিএ’র কড়া বার্তা প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগে প্রশ্নফাঁসে তোলপাড় শেয়ারবাজার গতিহীন দ্বিগুণ দামেও মিলছে না গ্যাস সিলিন্ডার বাংলাদেশ সংবাদপত্র কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি মতিউর মহাসচিব খায়রুল নির্বাচিত ঢাকায় নতুন মার্কিন দূত মব সৃষ্টি করে জমি দখলের চেষ্টা সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে রক্ষা কক্সবাজার সীমান্ত এলাকায় মাইন বিস্ফোরণে যুবক আহত, সড়ক অবরোধ দিনাজপুরে নদী থেকে ২ যুবকের লাশ উদ্ধার স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নির্বাচন থেকে বাদ দিতে মাঠপর্যায়ে কাজ করা হচ্ছে নির্বাচনি জরিপে বিএনপি জামায়াতের হাড্ডাহাডি লড়াইয়ের আভাস রাজস্ব সংগ্রহে এনবিআরের চ্যালেঞ্জ আদালত প্রাঙ্গণে পলককে ডিম নিক্ষেপ ইনকিলাব মঞ্চের ফরিদপুরে শ্রমিকবাহী পিকআপে ট্রেনের ধাক্কায় দুই ভাইসহ নিহত ৩ শ্যামনগরে আমন ধানের বাম্পার ফলনেও হাসি নেই কৃষকের মুখে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা বাতিলসহ ৫ দফা দাবি ছাত্র অধিকার পরিষদের ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করতেই হবে-রেজাউল করীম হলফনামায় ‘অপ্রদর্শিত’ সম্পদের মালিকদের শাসক হিসেবে চান না দুদক চেয়ারম্যান কোনো দলকে বিশেষ সুবিধা দিচ্ছে না সরকার-প্রেস সচিব ভারতের সঙ্গে ব্যবসায় কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি-বাণিজ্য উপদেষ্টা

প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগে প্রশ্নফাঁসে তোলপাড়

  • আপলোড সময় : ১২-০১-২০২৬ ১১:৪১:৪৪ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১২-০১-২০২৬ ১১:৪১:৪৪ অপরাহ্ন
প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগে প্রশ্নফাঁসে তোলপাড়

* শিক্ষক নিয়োগ প্রশ্নফাঁস-অনিয়মে নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে এনসিপি
* প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের প্রমাণ পায়নি অধিদফতর
* প্রশ্ন ফাঁস চক্রের ৮ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনী
 
প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। এ ঘটনার উদ্বেগের মধ্যেই এবার নতুন মোড় নিয়েছে। এতদিন পাবলিক ও মাধ্যমিকের সরকারি শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস নিয়েই ছিল উদ্বেগ। এবার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের মধ্যদিয়ে প্রতিবাদ ও নিন্দার ঝড় বইছে। এরই মধ্যদিয়ে ৯ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত প্রাথমিক প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় একের পর এক অনিয়ম ও জালিয়াতির ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এর আগেও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ‘অফিস সহকারী’ নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটেছিল। তবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের কোনো প্রমাণ পায়নি বলে জানিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। গতকাল সোমবার গণমাধ্যমে এ তথ্য জানিয়েছেন অধিদপ্তরের পলিসি অ্যান্ড অপারেশন বিভাগের পরিচালক এ কে মোহাম্মদ সামছুল আহসান।
চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস ও নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এর আগেও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ‘অফিস সহকারী’ নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটেছিল। প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় একের পর এক অনিয়ম ও জালিয়াতির ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। সোমবার দলের শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক ফয়সাল মাহমুদ শান্ত স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই নিন্দা জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, এ ধরনের অনিয়ম আমাদের সমাজের তরুণ ও সম্ভাবনাময় প্রার্থীদের স্বপ্ন ও সততার ওপর এক নির্মম আঘাত। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান শুরু হয়েছিল চাকরি ব্যবস্থায় বৈষম্য, অনিয়ম ও জালিয়াতির বিরুদ্ধে চাকরি পরীক্ষার্থীদের প্রত্যক্ষ প্রতিবাদের মধ্য দিয়ে। ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের পর অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়। এতে আরও বলা হয়, এই সরকারের কাছে বাংলাদেশের জনগণের প্রত্যাশা ছিল সর্বপ্রথম চাকরি পরীক্ষার সব অনিয়ম ও জটিলতা দূর করে একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ ব্যবস্থা প্রণয়ন করা। কিন্তু বাস্তবে তা পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। এই সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তর গুণগত পরিবর্তনের পরিবর্তে টেন্ডার বাণিজ্য, নিয়োগ বাণিজ্য ও বদলি বাণিজ্যের প্রতি অধিক মনোযোগী হয়েছে, যা আমাদের জাতি হিসেবে লজ্জাজনক এবং শহীদদের রক্তের প্রতি চরম অবমাননা। বিজ্ঞপ্তিতে এনসিপি জানায়, পরিপ্রেক্ষিতে আমরা দৃঢভাবে বলতে চাই-প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা কেন্দ্র করে উঠে আসা সব অভিযোগের নিরপেক্ষ ও যথাযথ তদন্ত করতে হবে; নিরপেক্ষ তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা যাবে না; প্রশ্নফাঁসের অভিযোগের ন্যূনতম সত্যতা পাওয়া গেলে অনুষ্ঠিত পরীক্ষা বাতিল করে পুনরায় পরীক্ষা নিতে হবে এবং প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে শাস্তির আওতায় এনে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে প্রশ্ন প্রণয়নের দায়িত্ব থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করতে হবে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ার পরও যদি মন্ত্রণালয় বা অধিদপ্তরের কোনো ধরনের অবহেলা বা অবজ্ঞা পরিলক্ষিত হয়, তবে আমরা চাকরি পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে আন্দোলনের মাঠে শামিল হয়ে তাদের ন্যায্য দাবি আদায় করবো।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিতব্য সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ঘিরে দেশজুড়ে আলোচনা ও সমালোচনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। পরীক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ তুলে পরীক্ষা বাতিলের দাবি জানিয়েছেন। এমন প্রেক্ষাপটে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে প্রশ্নফাঁস বন্ধ ও নিয়োগ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ৫টি করণীয় তুলে ধরেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সদস্য সচিব মোহাম্মদ মিরাজ মিয়া। সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ ব্যবস্থার দুর্বলতা, প্রশ্নফাঁস চক্রের তৎপরতা এবং দীর্ঘদিনের কাঠামোগত সমস্যার কথা তুলে ধরেন। পাঠকদের জন্য তার বক্তব্যটি হুবহু প্রকাশ করা হয়েছে। পোস্টে মোহাম্মদ মিরাজ মিয়া বলেন, সম্প্রতি অনুষ্ঠিতব্য সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের স্পষ্ট আলামত রয়েছে বলে শিক্ষার্থীরা দাবি করছেন। তিনি উল্লেখ করেন, প্রাথমিক শিক্ষা খাতে এমনিতেই মেধাবীরা আগ্রহী হন না। যারা চাকরিতে যোগ দেন, তারাও নানা অনিয়ম, স্বল্প সুযোগ-সুবিধা ও বৈষম্যের কারণে পরবর্তীতে অন্য ভালো চাকরিতে চলে যান। তিনি আরও বলেন, প্রশ্নফাঁস চক্র ও ডিভাইস চক্রের মাধ্যমে অযোগ্য ব্যক্তিরা শিক্ষক হয়ে প্রবেশ করছে, যা দেশের শিক্ষাব্যবস্থার মূল ভিত্তি—প্রাথমিক শিক্ষাকেই ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এনসিপি নেতা মনে করেন, নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে সব রাজনৈতিক দলেরই কঠোর অবস্থান নেওয়া জরুরি।  রাষ্ট্রের প্রতিটি নিয়োগ মেধাভিত্তিক হওয়ার দাবিটিই ছিল জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল আকাঙ্ক্ষা। এই প্রেক্ষাপটে তিনি অবিলম্বে বাস্তবায়নের জন্য পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ করণীয় তুলে ধরেন-প্রথমত, প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িত পুরো চক্র যত শক্তিশালীই হোক না কেন, তাদের সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ প্রশ্নফাঁসের সাহস না পায়। দ্বিতীয়ত, জেলা ভিত্তিক পরীক্ষা পদ্ধতি বাতিল করে শুধুমাত্র ঢাকা ও বিভাগীয় পর্যায়ে নিয়োগ পরীক্ষাগুলো আয়োজনের প্রস্তাব দেন তিনি, যা প্রশ্নফাঁস ও স্থানীয় প্রভাব কমাতে সহায়ক হবে। তৃতীয়ত, প্রাথমিক শিক্ষা যেহেতু একটি বৃহৎ ও গুরুত্বপূর্ণ সেক্টর, তাই শুধু প্রিলিমিনারি ও সংক্ষিপ্ত ভাইভার পরিবর্তে লিখিত পরীক্ষাও অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলেন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার মতো একইসঙ্গে প্রিলি ও লিখিত পরীক্ষা নেওয়া যেতে পারে। প্রিলিতে উত্তীর্ণদের লিখিত খাতা মূল্যায়ন করলে সময়ও কম লাগবে এবং স্বচ্ছতাও বাড়বে বলে মত দেন তিনি। চতুর্থত, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের পর গঠিতব্য তিনটি কর্ম কমিশন—জেনারেল, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য—এর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষাগুলো পিএসসি (শিক্ষা)-এর অধীনে নেওয়া উচিত। তিনটি পিএসসিকে পূর্ণ আর্থিক ও প্রশাসনিক স্বায়ত্তশাসন দিয়ে কার্যকর করা গেলে ধীরে ধীরে সব নিয়োগ পরীক্ষা পিএসসির আওতায় আনা সম্ভব হবে। এতে মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত হবে এবং রাষ্ট্রের ওপর তরুণদের আস্থা বাড়বে। পঞ্চমত, তিনি জোর দিয়ে বলেন, মেধাভিত্তিক নিয়োগ ও এসব সংস্কার বাস্তবায়ন তখনই সম্ভব, যখন নীতিনির্ধারক ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এ বিষয়ে ন্যূনতম আন্তরিকতা ও সিরিয়াসনেস থাকবে। রাজনৈতিক দল ও নেতাদের বুঝতে হবে,এই নিয়োগ পরীক্ষাগুলো দেশের লক্ষ লক্ষ তরুণের জীবনের স্বপ্নের সঙ্গে জড়িত এবং তাদের একমাত্র চাওয়া হলো একটি ন্যায্য, স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক ব্যবস্থা। প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে বারবার প্রশ্নফাঁস ও অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, এ ধরনের প্রস্তাব ও সুপারিশ বাস্তবায়ন করা গেলে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় আস্থা ও মান দুটোই ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের কোনো প্রমাণ পায়নি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। পরীক্ষার ফল প্রকাশের কাজ চলছে। গতকাল সোমবার গণমাধ্যমে এ তথ্য জানিয়েছেন অধিদপ্তরের পলিসি অ্যান্ড অপারেশন বিভাগের পরিচালক এ কে মোহাম্মদ সামছুল আহসান। তিনি জানান, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁস, অনিয়ম ও কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতায় অভিযোগ উঠলেও এর কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। দ্রুত নিয়োগ পরীক্ষার ফল প্রকাশ করার জন্য কাজ চলছে। প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে গুজব ছড়ানো হচ্ছে। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার অনুরোধ করা হয়েছে। প্রশ্ন ফাঁস ও ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে জালিয়াতিসহ নানা অভিযোগে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ-সমাবেশ করেছেন একদল নিয়োগপ্রত্যাশী। নিয়োগপ্রত্যাশীদের এ দাবি আমলে নিয়ে অভিযোগ তদন্ত করার সিদ্ধান্ত নেয় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। আন্দোলনকারীদের দাবিগুলো হলো সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল করে দ্রুত পরীক্ষা নিতে হবে; সব চাকরির পরীক্ষা ঢাকায় নিতে হবে এবং প্রতিটি কেন্দ্রে ডিভাইস চেকার ও নেটওয়ার্ক জ্যামার রাখতে হবে; স্বতন্ত্র কমিটি গঠন করতে হবে এবং তার আওতায় সব পরীক্ষা নিতে হবে। একই দিনে একই সময়ে একাধিক পরীক্ষা নেওয়া যাবে না; যেসব প্রতিষ্ঠানে বিগত সালে পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের রেকর্ড আছে, তাদের কোনোভাবেই প্রশ্ন প্রণয়ন করার দায়িত্ব দেওয়া যাবে না; প্রশ্ন ফাঁস হওয়ার তথ্য প্রমাণিত হলে জড়িত সবাইকে সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় আনতে হবে।
এরআগে প্রশ্নফাঁস, ডিভাইসের মাধ্যমে জালিয়াতিসহ নানা অভিযোগে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ-সমাবেশ করেছেন একদল নিয়োগপ্রত্যাশী। একই সঙ্গে তারা পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেছেন। এ দাবি না মানা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া ঘোষণা দিয়েছেন। গত রোববার বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর মিরপুরে প্রাথমিক অধিদপ্তরের প্রধান ফটকে এ কর্মসূচি শুরু করেন তারা। দুপুর ১২টা পর্যন্ত সেখানে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন আন্দোলনকারীরা। এ সময় তারা নানান স্লোগানে পরীক্ষায় অনিয়ম, জালিয়াতি ও প্রশ্নফাঁস হয়েছে জানিয়ে বাতিলের দাবি করছেন। তাদের হাতে ‘প্রশ্ন ফাঁস চলবে না, চলবে না’; ‘প্রশ্নফাঁস হটাও, শিক্ষা বাঁচাও’; ‘মেধাবীরা বঞ্চিত কেন, ডিপিই জবাব চাই’; ‘পরিশ্রমের মর্যাদা নেই’ প্রভৃতি লেখা সংবলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। আন্দোলনকারীদের দাবিগুলো হলো-সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল করে দ্রুত পরীক্ষা নিতে হবে। সকল চাকরির পরীক্ষা ঢাকায় নিতে হবে এবং প্রতিটি কেন্দ্রে ডিভাইস চেকার ও নেটওয়ার্ক জ্যামার রাখতে হবে। স্বতন্ত্র কমিটি গঠন করতে হবে এবং তার আওতায় সকল পরীক্ষা নিতে হবে। একই দিনে একই সময়ে একাধিক পরীক্ষা নেওয়া যাবে না। যেসব প্রতিষ্ঠানে বিগত সালে পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের রেকর্ড আছে, তাদের কোনোভাবেই প্রশ্ন প্রণয়ন করার দায়িত্ব দেওয়া যাবে না। প্রশ্নফাঁস হওয়ার তথ্য প্রমাণিত হলে জড়িত সবাইকে সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় আনতে হবে এবং প্রশ্ন প্রণয়নকারী প্রতিষ্ঠান প্রধানকে স্বেচ্ছায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পদত্যাগ করতে হবে।
সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে ৯ জানুয়ারি বিকেলে অনুষ্ঠিত হচ্ছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ‘সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ২০২৫’-এর লিখিত পরীক্ষা। পরীক্ষার আগেই প্রশ্নপত্র ফাঁস ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস রাখার অভিযোগে বিভিন্ন জেলায় শতাধিক আটকের খবর পাওয়া গেছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন, নগট টাকা, ব্ল্যাংক চেক, স্ট্যাম্প পেপার, প্রার্থীদের প্রবেশপত্র, প্রার্থীদের মূল সার্টিফিকেট জব্দ করা হয়।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এবার দুই ধাপ মিলিয়ে মোট ১৪ হাজার ৩৮৫টি শূন্য পদের বিপরীতে আবেদন জমা পড়ে ১০ লাখ ৮০ হাজার ৮০টি। সে হিসাবে গড়ে প্রতিটি পদের বিপরীতে লড়াই করেন প্রায় ৭৫ জন চাকরিপ্রার্থী। প্রথম ধাপে (রাজশাহী, রংপুর, সিলেট, খুলনা, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগ) ১০ হাজার ২১৯টি শূন্য পদের বিপরীতে আবেদন জমা পড়েছে ৭ লাখ ৪৫ হাজার ৯২৯টি। দ্বিতীয় ধাপে (ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগ) ৪ হাজার ১৬৬টি পদের বিপরীতে আবেদন জমা পড়েছে ৩ লাখ ৩৪ হাজার ১৫১টি। তবে ঠিক কতজন পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়েছেন এবং কত পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন, তা এখনো নিশ্চিত করে জানায়নি অধিদপ্তর।

নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata

কমেন্ট বক্স